Monday, November 27, 2017

ধর্মান্তর একটি মারাত্মক ব্যাধি

আমাদের সমাজে ধর্মান্তর একটি মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাড়াচ্ছে। আমরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আমরা বুদ্ধের দেখানো পথে চলার সর্বাত্বক চেষ্টা করি। আমাদের বৌদ্ধরা দিন দিন সেই স্থান থেকে চ্যুত হয়ে অন্যের দিকে চলেছে। ভগবান বুদ্ধ তার ধর্ম সব কিছু প্রচার করে পরিনির্বাপিত হয়ে গেছেন। তিনি এমন কোন জিনিস নাই যে প্রচার করেন নি। তিনি সদা সর্বদা সত্যের জয় গান করে গেছেন। তার কাছে কোন দিন হিংসা কথা শুনা যায় না। বরং নিজের শত্রুর উপর মৈত্রী প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু আজ আমরা সেই স্থান কত দূরে। আজ আমরা নিজের প্রতি মোহে পুরিভুত হয়ে, নিজের জাত, মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন এবং সমাজকে দুরে ঠেলে দিয়ে যাচ্ছি।
বিশেষ করে মেয়েদের। মাতৃ জাতি । বুদ্ধ মাতৃ জাতিকে যথাযথ সম্মান দেয়ার কথা বলেছিলেন। আজ মাতৃ জাতি সেই সম্মান রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশে তুলনা মুলক ভাবে খোলামেলা ভাবে চলা ফেরা করে আমাদের জাতি বোনেরা। কিন্তু তারা সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারেনি। আজ সেই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে তারা সহজে ধর্মান্তরিত হচ্ছে এবং হবে। এবং অনেকে ধর্মান্তিরিত হওয়ার প্রয়াস করছে। আজ যারা নিজের জাত, সমাজ, মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন লাটি মেরে দিয়ে চলে গেছে। সেই কোন দিন সুখী হয়েছে। না কোন দিন সুখী হই নি। বরং তারা না হয় লাশ হয়ে ফিরে এসেছে, না হয় জিন্দা লাশ হয়ে আছে। অথবা তাদের ঠাই হয়েছে সেই পতিতা লয়ে। জীবনে আপশোষ ছাড়া কিছুই পাই নি। তবুও এত কিছু দেখার পরও আমাদের মেয়েরা সংবেগ উৎপন্ন হচ্ছে না। তবুও তারা সাবধান হচ্ছে না। আজ সেই যাকে তুচ্চ-তাচ্ছিল্য করে চলে গেছিল। আজ তাদের কাছে আসার কত কাকুতি মিনুতি করছে। কিন্তু কেউ তাকে গ্রহন করছে না। দেখুন মেয়েরা কর্মফল কি। আগে আপনি তাদের আদরের মুনি ছিলে। আজ তুমি ঘৃনার পাত্র। প্রত্যেক মা-মামার চারটি মহা ব্রহ্মবিহার থাকে। থাকার পরও আপনি তাদের কাছে ঘৃনার পাত্র। চারটি মহাব্রহ্মা বিহার হচ্ছে- মৈত্রী, করুনা, মৈদিতা ও উপেক্ষা।
এবার আছি ধর্মে কি আলোচনা করা হয়েছে। যারা সম্যক দৃষ্টি সম্পন্ন হতে মিথ্যা দৃষ্টি সম্পন্ন হয়। তাদের মুক্তি নেই। সম্যক দৃস্টি মানে- আপনার চিন্তা ধারা সব সময় সত্যের দিকে থাকবে। আপনি কাউকে হত্যা করে সুখী হওয়ার চেষ্টা করবেন না। অথবা কাউকে হিংসা করবেন না। যে চিন্তা ধারা যেমন আপনার মঙ্গল ঠিক তেমনি দেব, মানব, পশু পক্ষীর জন্য মঙ্গল থাকে আমরা সম্যক দৃষ্টি বলবো। আর আরো গভীর ভাবে অনুধাবন করলে চারি আর্য সত্য এবং আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথগুলোকে সম্যকভাবে জানা তাই সম্যক দৃষ্টি। পৃথিবীতে ৬২ প্রকার মিথ্যা দৃষ্টি আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ধর্মান্তরিত হওয়া। ভগবান বুদ্ধ- ব্রহ্মজাল সুত্রে উল্লেখ করেছেন। যদি কোন সম্যক দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ মিথ্যা দৃষ্টি সম্পন্ন হয়। তাহলে তার আর ভবচক্র থেকে মুক্তি নেই। মা-বাবা হত্যা করে অবিচি নরকে পতিত হয়ে যে কোন এক সময় তিনি মুক্তি পাবেন। কিন্তু একজন মিথ্যা দৃষ্টি পরায়ন ব্যাক্তি কোন দিন মুক্তির মার্গ খুজে পাবেন না। আর তার ধর্মান্তরিত জীবন এত সুখ কর হয় না। আমাদের সমাজে অনেক ধর্মান্তরিত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু কোন দিন সুখ লাভ করেন নি। আর কত কি লিখবো। আমাদের বৌদ্ধ ধর্মের মেয়েরা তো আরো বেশি ধর্মান্তরিত হচ্ছে।
আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকা শহরের অবস্থান করছে। কেউই অধ্যায়নের জন্য আসছে, আবার কেউ কর্ম সুত্রে চলে আসছে। আর এখানে এসে চড়ক চুক্ষ গাছ হয়ে যায়। মনে করে দুনিয়াতে কিছু্ নেই। তাদের সেই অজ্ঞনতা কারনে নিজের জীবনকে দুঃখের মধ্যে তেলে দিচ্ছে। আমরা যারা শহরে অবস্থান করি। তাদের লজ্বায় মাথা নত হয়। কিন্তু সেই অজ্ঞতা রমনী মাথা উচু করে আমাদের সামনে হেটে যায়। আর আরেকটু ভাব দেখায়। তাই আমরা যারা আছি। তারা না দেখে বান করি। অথচ মা-বাবা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য এখানে পাঠিয়েছেন। আজ সেই কি করছে। নিজের অনলে নিজে পুড়ে যাওয়ার নিজেই চেষ্টা করছে। উচ্চ শিক্ষিত হয়ে কি শিক্ষা দেবে জাতিকে।

No comments:

Post a Comment