![]() |
| ভুটানের মূল ফটক |
সেদিন ছিল এমন একটা দিন যা কোন দিন ভুলার মত নই। আমি আনমনে বসে আছি। হঠাৎ করে এক বড় ভাই ফোন করে বলে ভুটানে কিছু কাজ আছে। ফ্রি থাকলে আমাকে যেতে বলল। আমি এমনি ফ্রি আছি। তাই সরাসরি যাবো বলে দিলাম।
তারপরের দিন একদম ভোরে ৫ টাই ঘুম থেকে উঠলাম। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে শিলিগুড়ি জংসনে উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। তারপর ট্রেনে টিকেট কাটলাম। টিকেট কেটে সোজা ইন্টারসিটি ট্রেন ধরলাম। যেহেতু প্রথম ভুটান যাওয়া।
এর আগে বলে রাখি ইন্ডিয়া আর ভুটানের দুই দেশের মধ্যে এক অনবদ্ধ সম্পর্ক আছে। ভারত এমন একটি দেশ পাশের দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখে। তাই ভুটানে ভ্রমন করতে হলে ভারতীয়দের ভিসা লাগে না। শুধু আডার কার্ড দিয়ে ভ্রমন করা যায়।
![]() |
| পুলসিলিংয়ে থাকার জন্য হোটেল |
ভারত এবং ভুটানের সীমনায় ভারতে সীমানায় জয়গাঁও আর ভুটানের সীমানায় পুলসিলিং নামে জায়গা আছে। সেখানে দিন রাত ভারতীয় ও ভূটানীদের ব্যাবসা চলছে। ভুটানের মানুষ ইন্ডিয়া এসে বাজার করছে আর ইন্ডিয়ার মানুষ ভুটানে গিয়ে বাজার করছে। আর এই দুই জায়গায় দুই দেশের কারেন্সি প্রচলন।
আমারে ট্রেন ছাড়লো সকাল ৬.১০ মিনিটে আমরা যাচ্ছি আর যাচ্ছি প্রায় ৩/৪ ঘন্টা ট্রেনে বসে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগছে না। অবশেষে, আমরা হাসিমারা নামক স্টেশনে পৌছালাম। কারন, আপনি যদি ট্রেনে ভুটান ভ্রমন করতে আছেন তাহলে আপনাকে হাসিমারা নামক ট্রেন ষ্টেশনে নামতে হবে।
আমরা ট্রেন থেকে নামলাম। এরপর ট্রেন ষ্টেশনে থেকে একটু দুরে হেটে এসে গাড়ি ধরলাম। সেখান থেকে সোজা জয়গাও নামলাম। জন প্রতি ভাড়া ২০ টাকা। বড় ভাই ওনার কাজ শেষ করে আমাকে বলে চল ভুটান ঘুরি আছি।
![]() |
| বৌদ্ধ মন্দিরে ফটক |
তারপর গাড়ি একটা ভাড়া করলাম ৪৫০ টাকা রুপি দিয়ে। গাড়ি ভাড়া করার সময় বলা হয়েছে পুলসিলিংয়ে যত দর্শনীয় জায়গা আছে দেখানোর জন্য। এরপর আমাদের গাড়ি ছাড়লো। আমরা এমন একটা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি যা বলার মত নই। এবড়ো তেবড়ো রাস্তা। নতুন বানাচ্ছে বলে এই রকম হচ্ছে। এরপর আমরা একটা লামা মন্দিরে দেখতে গেলাম। লামা বৌদ্ধ মন্দির গুলো সেই রকম সুন্দর ও কারুকার্য দিয়ে তৈরি করা হয় যা বলার মত নই। এরপর আমরা অনেক ছবি তুললাম। ছবি তুলে আরো একটা লামা মন্দিরে গেলাম। এটা একদম পাহাড়েরর উপর। যেতে প্রায় ২০/২৫ মিনিট লাগলো। গিয়ে দেখি যে আগের মন্দির থেকে এই মন্দিরটি অনেক সুন্দর। কয়েকটা ছবি তুললাম।
আরেকটা অবাক করার বিষয় ভুটানে রাস্তা গুলোতে গাড়ি চলে কিন্তু হর্ন বাজে না। শুধু ইঞ্জিনের শব্দ চলে। আর মানুষ গুলো এমন শান্ত নিরব কেউ কাউকে থাকাচ্ছে না। সবাই নিজের কাজে নিজেই ব্যাস্ত। আর তাদের ট্রাফিক রুল এমন ভাবে অনুসরন করে যা বলার মত নই। সবাই জেব্রা ক্রসিংয়ের মধ্যে চলাচল করে।
সবশেষে, ভুটান হচ্ছে বিশ্বের সব চাইতে সুখী দেশ। মনে হয় যেন কোন স্বর্গে চলে আসছি।
নিচে ভুটান ভ্রমনে ভিডিও লিংক দিলাম






