Tuesday, December 18, 2018

ভুটান ভ্রমনের এক অভিজ্ঞতা

ভুটানের মূল ফটক
সেদিন ছিল এমন একটা দিন যা কোন দিন ভুলার মত নই। আমি আনমনে বসে আছি। হঠাৎ করে এক বড় ভাই ফোন করে বলে ভুটানে কিছু কাজ আছে। ফ্রি থাকলে আমাকে যেতে বলল। আমি এমনি ফ্রি আছি। তাই সরাসরি যাবো বলে দিলাম।
তারপরের দিন একদম ভোরে ৫ টাই ঘুম থেকে উঠলাম। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে শিলিগুড়ি জংসনে উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। তারপর ট্রেনে টিকেট কাটলাম। টিকেট কেটে সোজা ইন্টারসিটি ট্রেন ধরলাম। যেহেতু প্রথম ভুটান যাওয়া।

এর আগে বলে রাখি ইন্ডিয়া আর ভুটানের দুই দেশের মধ্যে এক অনবদ্ধ সম্পর্ক আছে। ভারত এমন একটি দেশ পাশের দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখে। তাই ভুটানে ভ্রমন করতে হলে ভারতীয়দের ভিসা লাগে না। শুধু আডার কার্ড দিয়ে ভ্রমন করা যায়।

পুলসিলিংয়ে থাকার জন্য হোটেল
ভারত এবং ভুটানের সীমনায় ভারতে সীমানায় জয়গাঁও আর ভুটানের সীমানায় পুলসিলিং নামে জায়গা আছে। সেখানে দিন রাত ভারতীয় ও ভূটানীদের ব্যাবসা চলছে। ভুটানের মানুষ ইন্ডিয়া এসে বাজার করছে আর ইন্ডিয়ার মানুষ ভুটানে গিয়ে বাজার করছে। আর এই দুই জায়গায় দুই দেশের কারেন্সি প্রচলন।

আমারে ট্রেন ছাড়লো সকাল ৬.১০ মিনিটে আমরা যাচ্ছি আর যাচ্ছি প্রায় ৩/৪ ঘন্টা ট্রেনে বসে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগছে না। অবশেষে, আমরা হাসিমারা নামক স্টেশনে পৌছালাম। কারন, আপনি যদি ট্রেনে ভুটান ভ্রমন করতে আছেন তাহলে আপনাকে হাসিমারা নামক ট্রেন ষ্টেশনে নামতে হবে। 

আমরা ট্রেন থেকে নামলাম। এরপর ট্রেন ষ্টেশনে থেকে একটু দুরে হেটে এসে গাড়ি ধরলাম। সেখান থেকে সোজা জয়গাও নামলাম। জন প্রতি ভাড়া ২০ টাকা। বড় ভাই ওনার কাজ শেষ করে আমাকে বলে চল ভুটান ঘুরি আছি।
বৌদ্ধ মন্দিরে ফটক
তারপর গাড়ি একটা ভাড়া করলাম ৪৫০ টাকা রুপি দিয়ে। গাড়ি ভাড়া করার সময় বলা হয়েছে পুলসিলিংয়ে যত দর্শনীয় জায়গা আছে দেখানোর জন্য। এরপর আমাদের গাড়ি ছাড়লো। আমরা এমন একটা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি যা বলার মত নই। এবড়ো তেবড়ো রাস্তা। নতুন বানাচ্ছে বলে এই রকম হচ্ছে। এরপর আমরা একটা লামা মন্দিরে দেখতে গেলাম। লামা বৌদ্ধ মন্দির গুলো সেই রকম সুন্দর ও কারুকার্য দিয়ে তৈরি করা হয় যা বলার মত নই। এরপর আমরা অনেক ছবি তুললাম। ছবি তুলে আরো একটা লামা মন্দিরে গেলাম। এটা একদম পাহাড়েরর উপর। যেতে প্রায় ২০/২৫ মিনিট লাগলো। গিয়ে দেখি যে আগের মন্দির থেকে এই মন্দিরটি অনেক সুন্দর। কয়েকটা ছবি তুললাম। 
শান্তি স্তুপা
আরেকটা অবাক করার বিষয় ভুটানে রাস্তা গুলোতে গাড়ি চলে কিন্তু হর্ন বাজে না। শুধু ইঞ্জিনের শব্দ চলে। আর মানুষ গুলো এমন শান্ত নিরব কেউ কাউকে থাকাচ্ছে না। সবাই নিজের কাজে নিজেই ব্যাস্ত। আর তাদের ট্রাফিক রুল এমন ভাবে অনুসরন করে যা বলার মত নই। সবাই জেব্রা ক্রসিংয়ের মধ্যে চলাচল করে।
সবশেষে, ভুটান হচ্ছে বিশ্বের সব চাইতে সুখী দেশ। মনে হয় যেন কোন স্বর্গে চলে আসছি।



 নিচে ভুটান ভ্রমনে ভিডিও লিংক দিলাম


Thursday, May 17, 2018

পোষাকে হতে হবে শালীনতা

আজকাল মেয়েরা আশালীনতা পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়ায়। এতে সমাজে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে । উঠতি বয়সের মেয়েরা  যেভাবে পোশাক পরে, তাতে না পরারই সমতুল্য- শরীরের অধিকাংশ অনাবৃত থেকে যায়। এ দৃশ্য এখন সব জায়গাতে দেখা যায়।

তাই দেশে এখন যৌন অপরাধ বেড়ে গেছে, এর সঙ্গে ন্যাংটা পোশাকের কোথায় যেন সংযোগ আছে। পুলিশও ঐ অবস্থার সামাল দিতে পারছে না।

এই সব ছেলেমেয়েরা যে তীব্র যৌন উত্তেজক পোশাক-টোসাক পরে সে দায় কেবল ফ্যাশন-শিল্পের উপর বর্তায় না। ছেলেমেয়ের ব্যাপারে উদাসীন মা-বাবারাই এ জন্যে দায়ী, আর যে সব শিক্ষক শিক্ষার্থীকে যথার্থ শিক্ষা দেন না তারাও দায়ী।

সমস্যাকে যদি আমরা পরিাষ্কার বিশ্লেষন করে দেখি, তাহলে দেখবো যে এই সব ছেলেমেয়েরা উঠতি বয়সে পৌছুবার আগেই সমস্যা গোড়াপত্তন হয়েছে যখন ওদের শৈশবেই ওদেরকে ন্যাংটা সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছিল।

``মা-বাবারা  এই ছোট্ট শিশুদের নাচ-গান করতে মঞ্চে উঠিয়েছিল।’’

‘‘ওদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ছিল, শিশুদের সৃজনশীল বিকাশের জন্য এবং আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করার জন্য এটা প্রয়োজন। নাচের মুদ্রাঅভ্যাসে ঐ কচি বয়সেই ওদের অঙ্গভঙ্গীতে বিলোল কটাক্ষ ইত্যাদি ইন্দ্রিয় বিলাসিতার হাতে খড়ি দেওয়া হয়েছিল। শুধু নাচে গানে নয়, মঞ্চে উঠার আগে খটো পোশাক আসাক পরিয়ে ওদের প্রায় উলঙ্গ করে সাজানো হয়েছিল। মা-বাবারা ও অভিভাবকমন্ডলীসহ শিক্ষকবৃন্দ ওই কচি শিশুদের নাচ-গান করতে দেখে প্রশংসা তবড়ি ফুটিয়ে ছিল। তাঁদের কাছে এই নাচ-গানের অনুষ্ঠান বেশ সফল প্রয়োজনতুল্য। দুর্ভাগ্যের শুরু এখান থেকেই। কারন অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলেও এর রেশ কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। নগ্নতার প্রদর্শক সাজসজ্জা, ইন্দ্রিয়বিলাসী নাচ-গান এবং প্রসাধনী এত উৎসাহ প্রশংসা ওরা পিয়েছিল, পরবর্তীকালে ওদের যখন বলা হলো পোশাক-আষাক ও সাজ সজ্জায় শালীনতা বজায় রেখো, তখন গুরুজনদের এ সব কথা শোনার গরজ ওরা আধৌ বোধ করিনি।
‘প্রায় অনাবৃত পোশাক-আসক্তি পরায় ওরা এতা স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠেছে যে, লজ্জা-টজ্জা হাওয়া হয়ে গেছে।

‘‘এতো অল্প বয়সে ইন্দ্রিয় উত্তেজক কাজ কারবারে ওরা মেতে উঠেছে দোষ দেবো কাকে? মা-বাবা তথা অভিভাবকসহ শিক্ষকবৃন্দইতো এর জন্য দায়ী। কারন ওরাইতো সৃজনশীলতার নামে শিশুদের মঞ্চে উঠতে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন। কাজে কাজেই এই সমস্যা সমস্যার নিরসন করতে চাইলে শিশুদের সদাচরন শিক্ষা দিতে হবে। কচি বয়সেই রুচিশীল সুন্দর ও মানানসই পোশাক পরতে দিতে হবে’’।

‘‘অতীতে মা-বাবারা ছেলেমেয়েদের শিশু বয়স থেকেই প্রায় পুরোটা ঢেকে ঢুকে কাপড় পরাতেন ওতে স্বাভাবিক ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় পাওয়া যেতো। উঠতি বয়সে খাটো কাপড় করার উৎসাহ দেওয়া হলে বড়ো হলে ঢেকেঢুকে পরবার জাগবেনা।

ঠিক ঠাক পোশাক পরিধানে মেয়েদের উৎসাহিত না করলে , মেয়ে শিশুরাই যৌনতার শিকার হবে- শিশু বেশ্যালয়- এরও সৃষ্টি হতে পারে, যার পরিনাম সর্বনাশের পথ।

Monday, March 19, 2018

পারিবারিক সচেতনতা প্রয়োজন


cvwievwiK m‡PZbZvt-

K. †Q‡j †g‡q hv‡Z wec`Mvgx n‡Z bv cv‡i †m e¨vcv‡i gvZvwcZv me©`v RvMÖZ _vK‡Z n‡e|

L. †`‡ki cwi‡ek cwiw¯’wZ Abyhvqx †g‡q‡`i KZUzKz †Lvjv‡gjv nIqv DwPZ Zv wba©vib K‡i †g‡q‡`i Pj‡Z †`qv DwPZ| cÖ‡qvRbxq iÿbkxjZv _vK‡Z n‡e| iÿYkxjZv Qvov †Kvb ÿz`ª m¤úª`vq wVK‡Z cv‡i bv|

M. ag©xq I mvgvwRK AvPvi, Abyôvb I Drme I c‡e© †Q‡j‡g‡q‡`i Ask MÖnb wbwðZ Kivi Rb¨ gvZvwcZvi Zrci _vKv DwPZ|

N. wb‡Ri evox‡Z wewfbœ ce© I c~wb©gvq we‡kl Lvevi `vevi I Abyôv‡bi Av‡qvRb K‡i cvov gnjøv †Q‡j‡g‡q‡`i (wbR m¤úª`v‡qi) GKwÎZ Kivi e¨ve¯’v Ki‡Z n‡e|

O. A_©, weË I Z_vKw_Z mvgvwRK gh©v`vi An¼vi cwiZ¨vM K‡i wb‡R‡`i †Q‡j‡g‡q‡`i h_v mg‡q Mixe A_P cÖwZfvevb †Q‡j‡g‡q‡`i mv‡_ we‡q †`qv hvq| Zv‡Z wb‡R‡`i gh©v`v I gnZ¡ Av‡iv evo‡e G‡Z Abwf‡cÖZ NUbv NUvi Avkv¼v _v‡K bv|

P. wb‡R‡`i †Q‡j‡g‡q‡`i Avcb m¤úª`v‡qi †Q‡j‡g‡q‡`i mv‡_ †gjv‡gkvq DrmvwnZ Kiv Ges Zv‡K mnRfv‡e wb‡Z n‡e|

Q. †Q‡j‡g‡q‡`i KL‡bv- Avgv‡`i m¤úª`v‡q Zv‡`i Rb¨ Dchy³ cvÎ-cvÎx †bB GB ai‡bi wec¾bK K_v e‡j Zv‡`i AvZ¥An¼vix K‡iv †Zvjv †gv‡UB DwPZ bB|

R. †Q‡j †g‡q‡`i Aeva Pjv‡div, wec`Mvgx nIqv I AmgvÄm¨ †gjv‡gkv †P‡L co‡j ev A‡b¨i Øviv ÁvZ Kiv n‡j Zv‡K AMÖvn¨ bv K‡i LyeB ¸iæ‡Z¡i mv‡_ wb‡q h_vh_ e¨e¯’v MÖnb Kiv DwPZ|

mvgvwRK m‡PZbZv, `vwqZ¡ I KZ©e¨t

K. DbœZ Rbkw³B †KejgvÎ GKwU DbœZ mgvR Z_v †`k M‡o Zzj‡Z cv‡i| Avi †mB DbœZ mgvR evm Kiv gv‡bB Rxe Av‡iv †ekx mv_©K I †MŠievwš^Z n‡Z cv‡i| ZvB mgv‡Ri wkwÿZ †Q‡j †g‡qiv Avgv‡`i cÖ‡Z¨‡Ki m¤ú` G m¤ú‡K© m‡PZb _vK‡Z n‡e|

L. DbœZ Rbkw³B †KejgvÎ GKwU DbZœ wkwÿZ mgvR Z_v RvwZ Dcnvi w`‡Z cv‡i| Avi DbœZ bvixB G Av`k© I HwZ‡n¨i aviY Ges iÿv Ki‡Z cv‡i| AZGe mgv‡Ri wkwÿZ bvix‡`i c`•Lj I wec`MvgxZv‡K iæL‡Z mevB‡K m‡PZb n‡Z n‡e|

M. mgvK bv _vK‡j Avwg A_ev Avgvi gnvb DËivwaKvi wU‡K _vK‡e bv| ZvB mgv‡Ri cÖwZ mK‡jB `vwqZ¡kxj nIqv DwPZ|

N. wkÿv cÖwZôv‡b wbR m¤úª`v‡qi QvÎ-QvÎxiv wb‡R‡`i g‡a¨ mym¤úK© I msnwZ ¯’vc‡bi j‡ÿ¨ AšÍZt cÖwZgv‡m `y GKevi wgwjZ n‡q e¨w³MZ, cvwievwiK I mvgvwRK I bvvb wel‡q Avjv Av‡jvPbv Ki‡Z cv‡i|

O. wkÿv cÖwZôvb, cvov, gnjøvq †Kvb †Q‡j‡g‡q wec`Mvgx n‡j, Avkvjxb I AmgvÄm¨c~b© Pjv‡div I †gjv‡gkv Ki‡j Zvi cÖwZKvi Kiv mvgvwRK `vwqZ¡ g‡b Kiv| Gme †ÿ‡Î †`vlx‡K mwVK c‡_ wb‡q Avmv mveavb K‡i †`qv I Ab¨vb¨ e¨e¯’v Kiv †h‡Z cv‡i|

P. Rbkw³B †Kvb mgvR Ges Av`k©‡K wUwK‡q ivL‡Z cv‡i| Avi Avgv‡`i c~b© wbivcËv, AwaKvi I gh©v`v mv‡_ evm Ki‡Z n‡j Avgv‡`i DbœZ gvbe m¤ú` cÖ‡qvRb| Avi Avgv‡`i kÖg, A_©, kw³ I mvabv Øvi Mov gvbe m¤ú` Avgiv †njvq nviv‡Z cvwi bv| G m¤ú‡K© m‡PZb _vK‡Z n‡e|

Q. mfv, mwgwZ, ag©xq Abyôvb a‡g©i ˆbwZK w`K¸‡jv †ekx K‡i Zz‡j aivi e¨e¯’v Kiv hv‡Z †Q‡j‡g‡qiv Av`k©evb I PwiÎevb n‡q DV‡Z cv‡i|

R. mvgvwRK I ag©xq Abyôvb¸‡jv‡Z hv‡Z hyeK-hyeZx, wK‡kvi-wK‡kvixiv †ekx †ekx Ask MÖnb Ki‡Z cv‡i Zvi e¨e¯’v Ki‡Z n‡e|

S. mfv mwgwZ‡Z QvÎ-QvÎx‡`i K_v ejevi, e³e¨ ivLevi Ges Abyf~wZ cÖKvk Kivi my‡hvM †`qv DwPZ hv‡Z Zviv mgv‡Ri mv‡_ Av‡iv GKZ¥ I mshy³ n‡Z cv‡i|

T. m‡e©vcwi mvgvwRK AbvPv‡ii weiæ‡× mgv‡Ri mevB‡K HK¨e×fv‡e †¯^v”Qvi n‡Z n‡e| cÖwZKvi, cÖwZweavb I cÖwZev` Kivi e¨e¯’v Ki‡Z n‡e|

U. wewfbœ msMV‡bi D‡`¨v‡M gv‡S gv‡S wK‡kvi-wK‡kvix, hyeK-hyeZx mgv‡ek K‡i Zv‡`i KvQ †_‡K Zv‡`i mgvR, ag©, I ms¯‹…wZ BZ¨vw` m¤ú‡K© cÖwZwµqv Abyf~wZ Rvbv DwPZ|

(সংগৃহিত)

Saturday, March 17, 2018

আদিবাসী যুবতী নারীরা ধর্মান্তরের স্বীকার

আপনারা সবাই জানেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি বাংলাদেশের অংশ। এটি মূলত পাহাড় ও সবুজ বন দিয়ে ঘেরা। এখানে প্রাকৃতিক আভা যেন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু বিধিবাম এই পার্বত্য চট্টগ্রামকে নরক বানিয়ে রেখেছে কিছু স্বার্থনেষী মহল। কারন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত রাখতে পারলেই। তাদের স্বার্থ হাসিল হবেই।
আদিবাসী তরুনী

যা হোক এবার সেই সব মহলের দৃষ্টি গেছে। সহজ সরল মনা পাহাড়ী তরুনীদের দিকে। যেহেতু পাহাড়ী মেয়ে তার সব কিছুতেই সরলতার সুযোগ থাকে। সেই সব সরলতাকে কাজে লাগাচ্ছে কিছু স্বার্থনেষী মানুষ। তাদেরকে নানা মিথ্যা প্রলোভন দেখেয়ে। নানা ভাবে বুঝিয়ে ভুলিয়ে তাদেরকে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে।
ধর্মান্তরিত কৌশল আর ভিন্ন ভাবে। আমরা সাধারন ভাবে যা বলি তা হচ্ছে “লাভ জিহাদ”। যেহেতু মেয়েরা সহজ সরল। একবার ফাঁদে পা দিতে পারলেই সবকিছু সম্ভব।

আর সহজ সরল মেয়েরা অতি সহজে সেই পথে পা বাড়াচ্ছে। যে পথে একবার হেটে গেলে আর ফিরে আসার কোন সহজ নই। 

আগে হয়তো নেহাতে কমছিল। কিন্তু এখন প্রতিদিন ঘটছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়। 
যেহেতু সবাই প্রেম করে। প্রেমে কোন জাত. পাত মানা যায় না। ভালবাসা মানেই একটা পবিত্রতা। কিন্তু মনের ভিতরে আরেকটা কাজ চলেছে।

প্রেম করে বিয়ে করছে। নিজের আত্মীয়-স্বজন পরিজন ভূলে। সেই সাথে ধর্মকেও ত্যাগ করেছে। একটু পাওয়ার আশায় কিন্তু তার প্রতিদানে পাচ্ছে। শুধু কষ্ট আর কষ্ট। যাকে আপন ভেবে এত কিছু করেছে। সে আবার নতুন একটা বিয়ে করেছে। সে সংসার নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেছে। এখন দেখার মত কেউ নেই। এখন শুরু হয়ে যায় কষ্টের দিন।

এভাবে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদেরকে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যম গুলোতে এই গুলো প্রচার হয়। কিন্তু তার খবর কেউ কি নেই।

এই সব কিছুর মূলে রয়েছে। বাংলাদেশের বড় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। তারা সংখ্যাগুরুদেরকে উস্কে দিচ্ছে যে আদিবাসী মেয়েদের সাথে  প্রেম করতে। এবংকি ধর্ষন, হত্যা, লুন্ঠন করতে। কারন, আদিবাসী মেয়েরা অন্য ধর্মাবলম্বী বিশেষ করে মুসলিম বিয়ে করলে। কোন দিন বাবার বাড়ি বা সমাজে উঠতে বা যেতে পারে না।

এটা এক ধরনের ইসলামী করন। আগে আদিবাসী মেয়েদেরকে ধর্মান্তরিত করতে হবে। তারপর পুরুষদের কাছে টানতে অসুবিধা হবে না।  একটি প্রবাদ আছে-“কান তানলে মাথা আছে”। ঠিক তেমনি আগে মেয়েদেরকে নিয়ে আসতে হবে।

এতদিন আমরা যা দেখেছি । কোন আদিবাসী নারী ধর্মান্তরিত হয়ে কোন সুখী হতে পারে নি। তাই সবাধান পাহাড়ী মেয়েরা আপনারা সহজে কারোর প্রলোভনে পড়বেন না। যদি একবার পা দেন তাহলে আপনাদের বাহির হওয়ার কোন রাস্তা নেই। তাই ধর্মান্তরিত হওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিরাপদ জীবন যাপন করুন।

Tuesday, November 28, 2017

সকলের গুরুজি ভদন্ত শোভানন্দ মহাথের মহাপ্রয়াণ

পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন বড় ধর্মীয় গুরু ভদন্ত শোভা নন্দ মহা প্রয়াণ ঘটে। গত ২৫/১১১/২০১৭ ইং রোজ রবিবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বন্দর নগরীর চট্টগ্রামেস্থ বেসরকারী হাসপাতাল ম্যাক্স হাসপাতালে। 
                                                             

তিনি দীর্ঘ কয়েক মাস আগ থেকে জন্ডিস, লিভার ও কিডনি রোগে ভূগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি দেখা দিলে প্রথমে তিনি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় ডাক্টাররা তাকে ম্যাক্স হাসপাতালে রেফার করেন। তার একদিন পরে তাকে চট্টগ্রামে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর তার শারীরিক অবস্থা একটু উন্নতি হলে। ডাক্টাররা তাকে রক্ত দেয়ার পরামর্শ দেন।  তারপর ভদন্ত শোভা নন্দ মহাথেরকে রক্ত দেয়া হয়। রক্ত দেয়ার পর সকালে একটু কথা বলেন। সারাদিন ভাল মন্ড করে থাকতে থাকতে রাত্রে হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হয়।

ভদন্ত শোভা নন্দ মহাথের ভান্তেকে সকালে রক্ত দেয়া হয়েছিল। তিনি সেই সব রক্ত বমি করে ফেলছিল। তারপরও সারা রাত ডাক্টাররা চেষ্টা করেন বমি বন্ধ করা জন্য। কিন্তু তারা ব্যার্থ হয়। মৃত্যুর দিন সকালে তাকে আইসিওতে রাখা হয়। পুরা ১১/১২ ঘন্টা আইসিওতে থাকার পর বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি আজীবন ব্রাহ্মচারী। ভিক্ষু জীবনের তার ৪৭ বর্ষা (বছর)। তিনি জীবিত কালে অনেক বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। ভদন্ত শোভা নন্দ মহাথের ভারত ও বাংলাদেশে তিনি এই ৪৭ বছর ধর্ম প্রচার ও প্রসার করেছেন। 

তিনি একাধারে মিশুক, পরোপকারী, বন্ধুত্বভাবাপন্ন, সদা হাস্যজ্জোল ও সহ আরো অনেক কিছু। তার এই দীর্ঘ জীবনে পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক কিছু দিয়েছে। 

তার মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমেছে। তার মুত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রামে আনাচে কানাচে কান্নার রোল পড়েছে। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ একজন গুরুত্বপূর্ন মহান মহাপুরুষকে হারিছে। তার ক্ষতি পূরন করার কেউ নেই।

ভদন্ত শোভা নন্দ মহাথেরকে কাচের কফিনে রাখা হয়েছে। রাঙ্গামাটি সদরস্থ মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে। মহাথের ভান্তেকে দীর্ঘ তিন মাস কফিনে রাখার পর। আগামী বছর সম্ভ্যাব্য ৭-৮ মার্চ ২০১৮ ইং তারিখে অত্যান্ত ধর্মীয় মর্যাদায় দাহ ক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

Monday, November 27, 2017

ধর্মান্তর একটি মারাত্মক ব্যাধি

আমাদের সমাজে ধর্মান্তর একটি মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাড়াচ্ছে। আমরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আমরা বুদ্ধের দেখানো পথে চলার সর্বাত্বক চেষ্টা করি। আমাদের বৌদ্ধরা দিন দিন সেই স্থান থেকে চ্যুত হয়ে অন্যের দিকে চলেছে। ভগবান বুদ্ধ তার ধর্ম সব কিছু প্রচার করে পরিনির্বাপিত হয়ে গেছেন। তিনি এমন কোন জিনিস নাই যে প্রচার করেন নি। তিনি সদা সর্বদা সত্যের জয় গান করে গেছেন। তার কাছে কোন দিন হিংসা কথা শুনা যায় না। বরং নিজের শত্রুর উপর মৈত্রী প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু আজ আমরা সেই স্থান কত দূরে। আজ আমরা নিজের প্রতি মোহে পুরিভুত হয়ে, নিজের জাত, মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন এবং সমাজকে দুরে ঠেলে দিয়ে যাচ্ছি।
বিশেষ করে মেয়েদের। মাতৃ জাতি । বুদ্ধ মাতৃ জাতিকে যথাযথ সম্মান দেয়ার কথা বলেছিলেন। আজ মাতৃ জাতি সেই সম্মান রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশে তুলনা মুলক ভাবে খোলামেলা ভাবে চলা ফেরা করে আমাদের জাতি বোনেরা। কিন্তু তারা সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারেনি। আজ সেই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে তারা সহজে ধর্মান্তরিত হচ্ছে এবং হবে। এবং অনেকে ধর্মান্তিরিত হওয়ার প্রয়াস করছে। আজ যারা নিজের জাত, সমাজ, মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন লাটি মেরে দিয়ে চলে গেছে। সেই কোন দিন সুখী হয়েছে। না কোন দিন সুখী হই নি। বরং তারা না হয় লাশ হয়ে ফিরে এসেছে, না হয় জিন্দা লাশ হয়ে আছে। অথবা তাদের ঠাই হয়েছে সেই পতিতা লয়ে। জীবনে আপশোষ ছাড়া কিছুই পাই নি। তবুও এত কিছু দেখার পরও আমাদের মেয়েরা সংবেগ উৎপন্ন হচ্ছে না। তবুও তারা সাবধান হচ্ছে না। আজ সেই যাকে তুচ্চ-তাচ্ছিল্য করে চলে গেছিল। আজ তাদের কাছে আসার কত কাকুতি মিনুতি করছে। কিন্তু কেউ তাকে গ্রহন করছে না। দেখুন মেয়েরা কর্মফল কি। আগে আপনি তাদের আদরের মুনি ছিলে। আজ তুমি ঘৃনার পাত্র। প্রত্যেক মা-মামার চারটি মহা ব্রহ্মবিহার থাকে। থাকার পরও আপনি তাদের কাছে ঘৃনার পাত্র। চারটি মহাব্রহ্মা বিহার হচ্ছে- মৈত্রী, করুনা, মৈদিতা ও উপেক্ষা।
এবার আছি ধর্মে কি আলোচনা করা হয়েছে। যারা সম্যক দৃষ্টি সম্পন্ন হতে মিথ্যা দৃষ্টি সম্পন্ন হয়। তাদের মুক্তি নেই। সম্যক দৃস্টি মানে- আপনার চিন্তা ধারা সব সময় সত্যের দিকে থাকবে। আপনি কাউকে হত্যা করে সুখী হওয়ার চেষ্টা করবেন না। অথবা কাউকে হিংসা করবেন না। যে চিন্তা ধারা যেমন আপনার মঙ্গল ঠিক তেমনি দেব, মানব, পশু পক্ষীর জন্য মঙ্গল থাকে আমরা সম্যক দৃষ্টি বলবো। আর আরো গভীর ভাবে অনুধাবন করলে চারি আর্য সত্য এবং আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথগুলোকে সম্যকভাবে জানা তাই সম্যক দৃষ্টি। পৃথিবীতে ৬২ প্রকার মিথ্যা দৃষ্টি আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ধর্মান্তরিত হওয়া। ভগবান বুদ্ধ- ব্রহ্মজাল সুত্রে উল্লেখ করেছেন। যদি কোন সম্যক দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ মিথ্যা দৃষ্টি সম্পন্ন হয়। তাহলে তার আর ভবচক্র থেকে মুক্তি নেই। মা-বাবা হত্যা করে অবিচি নরকে পতিত হয়ে যে কোন এক সময় তিনি মুক্তি পাবেন। কিন্তু একজন মিথ্যা দৃষ্টি পরায়ন ব্যাক্তি কোন দিন মুক্তির মার্গ খুজে পাবেন না। আর তার ধর্মান্তরিত জীবন এত সুখ কর হয় না। আমাদের সমাজে অনেক ধর্মান্তরিত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু কোন দিন সুখ লাভ করেন নি। আর কত কি লিখবো। আমাদের বৌদ্ধ ধর্মের মেয়েরা তো আরো বেশি ধর্মান্তরিত হচ্ছে।
আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকা শহরের অবস্থান করছে। কেউই অধ্যায়নের জন্য আসছে, আবার কেউ কর্ম সুত্রে চলে আসছে। আর এখানে এসে চড়ক চুক্ষ গাছ হয়ে যায়। মনে করে দুনিয়াতে কিছু্ নেই। তাদের সেই অজ্ঞনতা কারনে নিজের জীবনকে দুঃখের মধ্যে তেলে দিচ্ছে। আমরা যারা শহরে অবস্থান করি। তাদের লজ্বায় মাথা নত হয়। কিন্তু সেই অজ্ঞতা রমনী মাথা উচু করে আমাদের সামনে হেটে যায়। আর আরেকটু ভাব দেখায়। তাই আমরা যারা আছি। তারা না দেখে বান করি। অথচ মা-বাবা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য এখানে পাঠিয়েছেন। আজ সেই কি করছে। নিজের অনলে নিজে পুড়ে যাওয়ার নিজেই চেষ্টা করছে। উচ্চ শিক্ষিত হয়ে কি শিক্ষা দেবে জাতিকে।